শিরোনাম
আইডিইবি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড এন্টারপ্রেনার্স ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন এর কমিটি গঠন ডিজিটাল বাংলাদেশের পরবর্তী ধাপ ক্যাশলেস সোসাইটি : জয় এসএমই ফাউন্ডেশনের ১০০’ কোটি টাকা ঋণের ৩৩ শতাংশ পেয়েছেন নারী উদ্যোক্তারা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের আঁতাতকরী বিএনপি নেতা নাসিরকে গনধোলাই দিলো কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা নিয়ে স্বজনপ্রীতি সহ্য করা হবে না : ওবায়দুল কাদের করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ৩২০০ কোটি টাকার নতুন প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের হাসেম ফুড পরিদর্শনে এসে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, পুলিশের লাঠিচার্জ চলমান লকডাউন শিথিল, ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত কঠোর বিধি-নিষেধের প্রজ্ঞাপন জারি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘে প্রস্তাব গৃহীত করোনা রোগীর চাপে চট্টগ্রাম মেডিকেলে সাধারণ রোগী ভর্তি বন্ধ করে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:১৯ অপরাহ্ন

চতুর্মুখী চাপে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ

মোঃ সিরাজুল মনির, উপদেষ্টা সম্পাদক, পিআরবি নিউজ
আপডেট মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১

‌চতুর্মুখী চাপে পড়েছে ধর্মীয় সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। অন্যতম শীর্ষ নেতা মামুনুল হককে আসামি করে ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় অন্তত চারটি মামলা হয়েছে৷


এসব মামলায় শীর্ষ নেতাদের আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি হেফাজতের পক্ষে সোচ্চার থাকা “শিশু বক্তা” হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম মাদানীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল ইসলাম ইসলামাবাদী  বলেন, ‘‘মামলা-গ্রেফতার সবই আন্দোলনের অংশ। এগুলোতে হেফাজত ভয় পায় না। হেফাজতের একটা গণভিত্তি তৈরি হয়েছে। সেই গণভিত্তিকে সরকার ভয় পায়। এ কারণে মিথ্যা মামলা দিয়ে হেফাজত নেতাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে। শিশু বক্তা বলে পরিচিত রফিকুল ইমলাম মাদানী সরকারের বিরুদ্ধে উচ্চকন্ঠে কথা বলেন। তিনি এমন কোন নেতা নন যে, তিনি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে পারেন। সরকার তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে একটি ভবিষ্যতকে নষ্ট করে দিয়েছে।

গত ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের বিরুদ্ধে বায়তুল মোকাররমে আন্দোলন ও সহিংসতার ঘটনায় হেফাজত নেতা মামুনুল হকসহ শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি সোনারগাঁওয়ে রিসোর্টে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দু’টি মামলা হয়েছে। এই মামলায় মামুনুল হককে গ্রেফতার করা হতে পারে বলে বুধবার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এই খবরে মোহাম্মদপুরে মামুনুল হকের মাদ্রাসার সামনে অবস্থান নেন ছাত্ররা। যদিও সরকারের কোন সংস্থা তাকে গ্রেফতার করেনি।

হেফাজত নেতাদের গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম   বলেন, “গ্রেফতারের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। কাউকে গ্রেফতার করতে গেলে সহিংসতার আশঙ্কা থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হয়। আমরা মামলার তদন্ত করছি। কৌশলগতভাবে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।

এদিকের গ্রেফতারের খবরের মধ্যে হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হক গত বৃহস্পতিবার ফেসবুক লাইভে আসেন। সেখানে তিনি বলেছেন, “স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে, স্ত্রীকে খুশি করতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে কোনো সত্যকে গোপন করারও অবকাশ রয়েছে। আমি একাধিক বিয়ে করেছি। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী ও বাংলাদেশের আইনে একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। একজন পুরুষ চারটি বিয়ে করতে পারেন। চারটি বিয়ে করলে কার কী? যারা আমার ব্যক্তিগত আলাপ কথা জনসম্মুখে এনেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করব। তবে ওই দিন অসাবধানতা ও নিজস্ব নিরাপত্তা না নিয়ে রয়্যাল রিসোর্টে ঘুরতে যাওয়া উচিত হয়নি। ব্যক্তিগত অসাবধানতা ও পদক্ষেপ না নেওয়ায় আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

অপরদিকে “শিশু বক্তা” হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম মাদানীকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গাজীপুরে তার মাদ্রাসাটিতেও তালা ঝুলছে। মাদানীকে নেত্রকোণায় তার বাড়ি থেকে  গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার তাকে গাজীপুরের গাছা থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব। গত ১০ ফেব্রুয়ারি এক ওয়াজ মাহফিলে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামি গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টা থেকে ১০টায় গাজীপুরের গাছা থানাধীন বোর্ড বাজারের কলমেশ্বর এলাকার শীতক ফ্যাক্টরির ভেতর ওয়াজ মাহফিলে বক্তা হিসেবে বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্র তথা সরকারবিরোধী ও আইন শৃঙ্খলা পরিপন্থি বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ডিজিটাল মাধ্যমে প্রদান করে, যা তার নির্দেশে ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। তার এই উসকানিমূলক বক্তব্যের ফলে ২৬ মার্চ ঢাকায় বায়তুল মোকাররম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, নাশকতা ও ব্যাপক ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ সংগঠিত হয়।

ওয়াজ মাহফিলে গিয়ে রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয় এমন বক্তব্য দেওয়া যায় কি-না? জানতে চাইলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামিয়া উবাইদিয়া নানুপুর মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী বলেন, “এটা কোনভাবেই উচিৎ নয়। কেউ সেটা করতেও পারেন না। তবে রফিকুল ইসলাম মাদানীর বিরুদ্ধে যেভাবে অভিযোগ আনা হয়েছে সেটা আমার মনে হয় ঠিক হয়নি।

হেফাজতকে কী সরকার ছাড় দিচ্ছে? না-কি কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে? জানতে চাইলে শিক্ষা উপমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল  বলেছেন “হেফাজতকে ছাড় দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে তাদের অবশ্যই গ্রেফতার করা হবে। কাউকে এখনও ছাড় দেওয়া হয়নি, হবেও না। চট্টগ্রাম শহরে হেফাজতের কোন অবস্থান নেই। আমার বিশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মামলার আসামি হেফাজত নেতাদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য নির্দেশনা দেবেন।
এর মধ্যে বিভিন্ন মামলায় হেফাজতের অনেক নেতাকে গ্রেফতার করে জেলখানায় প্রেরণ করেছে পুলিশ। আবার অনেক হেফাজত নেতা মামুনুল হকের পদত্যাগ অথবা বহিষ্কার চেয়েছিল কিন্তু হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সম্প্রতি সবাই মামুনুল হকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়াতে ইতিমধ্যে অনেক হেফাজত নেতা নিজে থেকে সরে যেতে শুরু করেছে যা হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের জন্য অশনি সংকেত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে সংগঠন টিকিয়ে রাখতে হেফাজতের অনেক নেতা এর মধ্যে সরকারের বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।


এই বিভাগের আরো খবর
greengrocers

Categories

Archives