শিরোনাম
আইডিইবি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড এন্টারপ্রেনার্স ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন এর কমিটি গঠন ডিজিটাল বাংলাদেশের পরবর্তী ধাপ ক্যাশলেস সোসাইটি : জয় এসএমই ফাউন্ডেশনের ১০০’ কোটি টাকা ঋণের ৩৩ শতাংশ পেয়েছেন নারী উদ্যোক্তারা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের আঁতাতকরী বিএনপি নেতা নাসিরকে গনধোলাই দিলো কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা নিয়ে স্বজনপ্রীতি সহ্য করা হবে না : ওবায়দুল কাদের করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ৩২০০ কোটি টাকার নতুন প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের হাসেম ফুড পরিদর্শনে এসে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, পুলিশের লাঠিচার্জ চলমান লকডাউন শিথিল, ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত কঠোর বিধি-নিষেধের প্রজ্ঞাপন জারি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘে প্রস্তাব গৃহীত করোনা রোগীর চাপে চট্টগ্রাম মেডিকেলে সাধারণ রোগী ভর্তি বন্ধ করে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:০৯ অপরাহ্ন

দিনাজপুরের বিরলে শিটি মরিচের বাম্পার ফলন

জেলা প্রতিনিধি ,পিআরবি নিউজ
আপডেট সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় এবারে রবি মৌসুমে ১৩ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে কৃষি অধিদপ্তর মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এপর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৯ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ অর্জিত হয়েছে। আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত মরিচ চাষ হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম জানান, চলতি বছর রবি মৌসুমে গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে জেলার ১৩টি উপজেলায় কৃষকেরা মরিচ চাষ শুরু করেছে। আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত মরিচ চাষ অর্জিত হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত জেলার ১৩টি উপজেলায় ৯ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ অর্জিত হয়েছে। চলতি বছর জেলায় ১৩ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সুত্র জানায়, মৌসুমের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়ে অতিরিক্ত জমিতে মরিচ চাষ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন। অনুকুল আবহাওয়া ও কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবারে জেলায় বাম্বার মরিচ চাষ ও ফলন অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের রবি ফলন নিয়ে গবেষনায় নিয়োজিত বিশেষজ্ঞ সহকারী পরিচালকহ আশরাফুজ্জামান জানান, এবারে রবি মৌসুমে জেলায় ঐতিহ্যবাহী ‘শিটি মরিচ’ এর চাষাবাদে ঘুরছে চাষিদের ভাগ্য। চলতি মৌসুমে মরিচের ভালো ফলন হয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে ক্ষেত থেকেই মরিচ ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। চাষিরা দামও পাচ্ছেন ভালো। এ মরিচ চাষাবাদের জন্যে বিখ্যাত দিনাজপুর বিরল উপজেলার বিভিন্ন কৃষি ভিত্তিক গ্রামগুলো। দৃষ্টিনন্দিত এ মরিচের স্থানীয় নাম ‘বিরলের শিটি মরিচ’। এ মরিচ দেখতেই সুন্দর নয়, এর ঝালের খ্যাতিও রয়েছে। এ মরিচ দেখতে চিকন ও লম্বা ধরনের। স্বাদ, রঙ ও সৌন্দর্যে এটি অনন্য। প্রায় দেড়শ বছর ধরে বিরল উপজেলার সর্বত্র শিটি মরিচের চাষ হলেও সময়ের বির্বতনে এ মরিচের চাষ বিলুপ্ত প্রায়। কিন্তু, এ মরিচ নতুনভাবে চাষ করে এবার ঘুরছে অনেক কৃষকের ভাগ্যের চাকা।এ শিটি মরিচের চাষ ধরে রাখতে বিরল উপজেলার জগতপুর, বিষ্ণুপুর, রানীপুকুর, মির্জাপুর, কুকড়িবন ও কামদেবপুরসহ অসংখ্য কৃষক আবারো নতুন করে চাষ শুরু করেছেন। মরিচ ক্ষেতের পরিচর্যা, মরিচ তোলা ও বিক্রি নিয়েই এখন সময় পার করছেন এসব গ্রামের প্রায় ৫শতাধিক কৃষক।

মরিচ চাষি মোকছেদ আলী জানান, তিনি ২২ শতক জমিতে শিটি মরিচ চাষ করেছেন। এজন্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। দু’দফায় ১৭ মণ কাঁচা মরিচ তুলে ৪৮ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। এরপরও জমিতে প্রায় ৫ মণ কাঁচা-পাকা মরিচ আছে। সদর উপজেলার মাশিমপুর গ্রামের রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত আদর্শ কৃষক মতিয়ার রহমানের বলেন, আমন ধান কর্তনের পর পৌষ মাসের শুরুতেই উঁচু জমিতে শিটি মরিচের চাষ করা হয়। মাঘ মাসের মাঝামাঝি থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত মরিচের ফলন কৃষকেরা পেয়ে থাকেন। পুনরায় বর্ষা মৌসুম শুরু হলে ভাদ্র-আশ্বিন মাসে আবার উচু জমিতে মরিচের চারা রোপণ করা হয়। চারা রোপণের ২ মাসের মধ্যে শুরু হয় মরিচ তোলা। নিবিড় পরিচর্যার পর মরিচ তুলতে পারে চাষিরা। প্রতি মৌসুমে ফলন্ত মরিচের ক্ষেত থেকে ৩ বার মরিচ সংগ্রহ করা যায়। শতক প্রতি এক মণেরও অধিক মরিচ পাওয়া যায়। মাঘ মাসে মরিচ পেকে লাল হয়ে যায়। কামদেবপুর গ্রামের মরিচ চাষি মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর আমি দেড় বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। বিঘা প্রতি চাষ করতে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে অর্ধ লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করেছি। আশা করছি, আরো অর্ধ লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করতে পারব। ’কৃষক রমজান আলী জানান, সিটি মরিচ চাষে এবার রোগ-বালাই তেমন একটা না হলেও প্রচন্ড শীতের কারণে গোঁড়া পঁচা রোগ হয়েছিল। তারপরও ফলন ভালো হয়েছে এবং দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

এ বিষয়ে দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল জানান, একবার শিটি মরিচের গাছ লাগালে ৩ থেকে ৪ বার ফসল সংগ্রহ করা যায়। প্রতি শতকে এক দশমিক ২৫ মণের অধিক ফলন হয়। হেক্টর প্রতি পাওয়া যায় ১২ টনের অধিক ফলন হয়। জেলার সদর, বিরল, বীরগঞ্জ, চিরিরবন্দর, খানসামা, ফুলবাড়ী ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় মরিচের চাষ তুলনা মুলক বেশি হয়। অন্যান্য উপজেলাতে মরিচ চাষ হয় তবে একটু কম।


এই বিভাগের আরো খবর
greengrocers

Categories

Archives