শিরোনাম
আইডিইবি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড এন্টারপ্রেনার্স ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন এর কমিটি গঠন ডিজিটাল বাংলাদেশের পরবর্তী ধাপ ক্যাশলেস সোসাইটি : জয় এসএমই ফাউন্ডেশনের ১০০’ কোটি টাকা ঋণের ৩৩ শতাংশ পেয়েছেন নারী উদ্যোক্তারা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের আঁতাতকরী বিএনপি নেতা নাসিরকে গনধোলাই দিলো কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা নিয়ে স্বজনপ্রীতি সহ্য করা হবে না : ওবায়দুল কাদের করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ৩২০০ কোটি টাকার নতুন প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের হাসেম ফুড পরিদর্শনে এসে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, পুলিশের লাঠিচার্জ চলমান লকডাউন শিথিল, ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত কঠোর বিধি-নিষেধের প্রজ্ঞাপন জারি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘে প্রস্তাব গৃহীত করোনা রোগীর চাপে চট্টগ্রাম মেডিকেলে সাধারণ রোগী ভর্তি বন্ধ করে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ
শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:০৭ অপরাহ্ন

একাত্তরের তিন মার্চের জনসভাতেও বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার কথা বলেন

ডেস্ক রিপোর্ট, পিআরবি নিউজ
আপডেট মঙ্গলবার, ২ মার্চ, ২০২১
বঙ্গবন্ধু

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একাত্তরের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত একটি জনসভাতেও স্বাধীনতার কথা বলেছিলেন। বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘আমি মরে গেলেও ৭কোটি মানুষ দেখবে দেশ সত্যিকার স্বাধীন হয়েছে। তিনি বলেন, হয়তো এটাই আমার শেষ ভাষণ। আমি যদি নাও থাকি আন্দোলন যেন থেমে না থাকে। বাঙালির স্বাধীনতার আন্দোলন যাতে না থামে।’ জনসভায় বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার কথা বলায় উদ্বেলিত মানুষ ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর, গ্রামে গ্রামে দূর্গ গড় : মুক্তিবাহিনী গঠন কর স্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত করে।

একাত্তরের ৩ মার্চ পল্টনে ছাত্রলীগ এবং শ্রমিকলীগের উদ্যোগে এক বিশাল জনসভায় বঙ্গবন্ধু এ আহ্বান জানান। পরদিন ৪ মার্চ দৈনিক ইত্তেফাক এবং আজাদে সভার বিস্তারিত ছাপা হয় । নূরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বঙ্গবন্ধুকে বাংলার স্বাধীকার আন্দোলনের সর্বাধিনায়ক ঘোষনা করা হয় । জনসভায় বক্তব্য রাখেন তোফায়েল আহমেদ, শ্রমিক নেতা আবদুল মান্নান এবং ডাকসু নেতা আবদুল কুদ্দুস মাখন। অজ্ঞাত কারনে এদিন আ স ম আবদুর রব বক্তৃতা করেননি। তার বক্তৃতা দেয়ার আগেই বঙ্গবন্ধু সভায় পৌছে যান। ড. মোহান্মদ হান্নান তার ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’ গ্রন্থে এ ব্যাপারে বিস্তারিত লিখেছেন। তিনি লিখেন, বঙ্গবন্ধু এদিন ভাষণে অফিস আদালতে যাওয়া এবং কর খাজনা দেয়া বন্ধ রাখতে বলেন। রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদপত্রে বিধি নিষেধ আরোপ করলে তিনি তা মান্য না করার নির্দেশ দেন। বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘দানবের সাথে লড়াইয়ে যে কোন পরিণতিকে মাথা পেতে বরণের জন্য আমরা প্রস্তুত। তেইশ বছর রক্ত দিয়ে এসেছি। প্রয়োজন বোধে বুকের রক্তে গঙ্গা বহাইয়া দেব। তবু সাক্ষাৎ মৃত্যুর মুখে দাড়িয়েও বাংলার বীর শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি করব না।’
এর আগে ৩ মার্চ রাজিৈতক পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় পাকিস্তানের নির্বাচিত রাজনৈতিক দলের নেতাদের একটি বৈঠক ডাকেন। আমন্ত্রিতদের তালিকায় উল্লেখযোগ্যরা ছিলেন- পাকিস্তান আওয়ামীলীগের শেখ মুজিবুর রহমান, পাকিস্তান পিপলস পার্টি থেকে জুলফিকার আলী ভুট্টো, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি থেকে খান আবদুল ওয়ালী খান, পাকিস্তান মুসলিম লীগ (কাইউম) থেকে খান আবদুল কাইউম খান, মুসলিম লীগ কাউন্সিল থেকে মিয়া মোমতাজ দৌলানা প্রমুখ ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার এই রাজনৈতিক সভাকে বন্দুকের নলের মুখে ‘নিষ্ঠুর তামাশা’ বলে অভিহিত করে তা প্রত্যাখান করেন। বাংলা একাডেমি পুরষ্কার প্রাপ্ত লেখক, কবি এবং সাংবাদিক আবুল মোমেন ৩ মার্চের জনসভায় বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলা প্রসঙ্গে বলেন, আগে থেকে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি এদিনের জনসভাতেও স্বাধীনতার প্রসঙ্গটি এনেছিলেন। যদিও জোরালো ভাবে তা উচ্চারিত হয়েছিল ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে। তিনি বলেন, অনেক আগে থেকে বিচ্ছিন্নভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিষয়টি আলোচিত হলেও সত্তর দশকে এবং আগে সংগঠিত নানা আন্দোলন সংগ্রামে স্বাধীনতার প্রত্যাশাটি আরো বেশি জোরালো হয়ে উঠে। স্বাধীনতার প্রতি জনগনের প্রত্যাশা অনুধাবন, পাকিস্তানীদের প্রতিক্রিয়া এবং প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণের জন্য ৩ মার্চের জনসভায় বঙ্গবন্ধু স্বাধানতার প্রসঙ্গটি তুলেছিলেন বলে মনে করেন আবুল মোমেন। পল্টনের সভা থেকে এ দিন ৪ থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন ৬টা থেকে ২টা পর্যন্ত হরতাল পালনের আহ্বান জানানো হয়। ৫ মার্চ বায়তুল মোকারম থেকে একটি লাঠি মিছিল বের করারও কর্মসূচি ঘোষিত হয়। এ দিকে ৩ মার্চ সারাদেশে পূর্ণ হরতাল শেষে ঢাকা, চট্রগ্রাম, রংপুর ও সিলেটে গোলযোগ হয়। পরদিন দৈনিক আজাদের খবরে বলা হয়, এদিন রাজশাহীতে টেলিফোন অফিসের সামনে সামরিক বাহিনীর গুলিতে আহতদের স্থানীয় মুুসলীম কমার্শিয়াল ব্যাংকের বারান্দায় ফেলে রাখা হয়। এ সময় আহতদের কয়েকজন ব্যাংকের দেয়ালে তাদের দেহ থেকে নিঃসরিত রক্ত দিয়ে ‘বাংলাদেশ স্বাধীন কর’ কথা লেখেন।


এই বিভাগের আরো খবর
greengrocers

Categories

Archives