শিরোনাম
আইডিইবি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড এন্টারপ্রেনার্স ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন এর কমিটি গঠন ডিজিটাল বাংলাদেশের পরবর্তী ধাপ ক্যাশলেস সোসাইটি : জয় এসএমই ফাউন্ডেশনের ১০০’ কোটি টাকা ঋণের ৩৩ শতাংশ পেয়েছেন নারী উদ্যোক্তারা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের আঁতাতকরী বিএনপি নেতা নাসিরকে গনধোলাই দিলো কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা নিয়ে স্বজনপ্রীতি সহ্য করা হবে না : ওবায়দুল কাদের করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ৩২০০ কোটি টাকার নতুন প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের হাসেম ফুড পরিদর্শনে এসে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, পুলিশের লাঠিচার্জ চলমান লকডাউন শিথিল, ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত কঠোর বিধি-নিষেধের প্রজ্ঞাপন জারি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘে প্রস্তাব গৃহীত করোনা রোগীর চাপে চট্টগ্রাম মেডিকেলে সাধারণ রোগী ভর্তি বন্ধ করে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৪০ অপরাহ্ন

বাংলা নাটক এবং গিরিশচন্দ্র ঘোষ

ডেস্ক রিপোর্ট, পিআরবি নিউজ
আপডেট মঙ্গলবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

চার দশকের বেশি তাঁর কর্মজীবনের গিরিশ ঘোষকে বেশ কয়েকবার নাটকের দল বদলাতে হয়েছে ‌। সেটা কখনও গ্রেট ন্যাশনাল কখনও এমারেল্ড কখনও বা কোহিনুর। আসলে তখনও বাংলা নাটকের রসিটি ছিল প্রতাপ চন্দ্র জহুরী কিংবা গুর্মুখ রায়দের মত ব্যবসায়ীদের হাতে। আবেগে চলা শিল্পীমানুষ বাংলার নাট্য জগতের কিংবদন্তি পুরুষ গিরিশচন্দ্র ঘোষ এদের মৌরসিপাট্টা মেনে নিতে পারতেন না।

এই বিশিষ্ট বঙ্গ সন্তান সংগীতস্রষ্টা, কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যপরিচালক ও নট। বাংলা থিয়েটারের স্বর্ণযুগ মূলত তাঁরই অবদান। ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি,কলকাতার বাগবাজারে গিরিশচন্দ্রের জন্ম। তিনি ছিলেন তাঁর পিতামাতার অষ্টম সন্তান। প্রথমে হেয়ার স্কুল ও পরে ওরিয়েন্টাল সেমিনারি বিদ্যালয়ে তিনি পড়াশোনা করেন।পরবর্তীকালে ইংরেজী ও হিন্দু পুরাণে জ্ঞান অর্জন করেন। কর্মজীবনে প্রথমে তিনি ‘অ্যাটকিন্সন টিলকন’ কোম্পানির হিসাবরক্ষণ বিভাগে শিক্ষানবিস হিসেবে যোগ দেন।

কথিত আছে গিরিশ ঘোষের মন প্রচণ্ড দ্রুতগতিতে এবং অদ্ভুত ভাবে চিন্তা করতে পারতো। তার চিন্তা কিংবা আইডিয়া বা শব্দাবলী তাৎক্ষনিক লিখে রাখার জন্য তিনি দেবেন্দ্রনাথ মজুমদারকে সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন। দেবেন্দ্র সারাক্ষণ তার কাছে তিনটি পেন্সিল প্রস্তুত রাখতেন, দোয়াত কলম রাখতেন না। কারণ কলমে কালি ভরার মত সময়টুকুও নাকি তিনি পেতেন না। কোনও কথা বুঝতে না পারলে ফের জিজ্ঞেস করলে গিরীশবাবু রেগে যেতেন, কারণ তাতে তার চিন্তায় ব্যাঘাত ঘটতো। তাই কোন শব্দ বুঝতে না পারলে তার নির্দেশ অনুযায়ী দেবেন্দ্র সেখানে ডট বসিয়ে যেতেন, যাতে পরে তা জেনে নিতে পারেন।

১৮৭২ সালে তিনিই প্রথম বাংলা পেশাদার নাট্য কোম্পানি ন্যাশানাল থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেন। গিরিশচন্দ্র প্রায় চল্লিশটি নাটক রচনা করেছেন এবং ততোধিক সংখ্যক নাটক পরিচালনা করেছেন। জীবনের পরবর্তী সময়ে তিনি রামকৃষ্ণ পরমহংসের অন্যতম শিষ্য হয়ে ওঠেন। তবে তার আগে ১৮৬৭ সালে শর্মিষ্ঠা নাটকের গীতিকার হিসাবে নাট্যজগৎতে প্রথম যুক্ত হন। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের প্রভাবে তিনি প্রথম গান এবং কবিতা লিখতে শুরু করেন। পরে নাট্য মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হলে নাটক লিখতে শুরু করেন। সীতার বনবাস ,সীতাহরণ , জনা ,বলিদান , সিরাজ-উদ-দোল্লা , মীরকাশিম ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য নাটক। সধবার একাদশীতে অভিনয় করে বেশ সুনাম অর্জন করে ছিলেন। কলকাতায় ন্যাশানাল থিয়েটার নামে তাঁর একটি নাট্য কোম্পানি ছিল। ১৮৭৭ সালে মেঘনাদবধ কাব্যে রামচন্দ্র ও মেঘনাদ উভয় ক্ষেত্রে অভিনয় জন্য সাধারণী পত্রিকার সম্পাদক অক্ষয়চন্দ্র সরকার তাঁকে ‘বঙ্গের গ্যারিক’ আখ্যায় ভূষিত করেন। ১৮৮৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর নটী বিনোদিনীকে নিয়ে তিনি স্টার থিয়েটার গড়েন,সেখানে কলকাতা চৈতন্যলীলা নাটকটি মঞ্চস্থ করেন। রামকৃষ্ণ পরমহংস এই নাটক দেখতে এসেছিলেন। এরপর উভয়েই তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।১৮৮৩ থেকে ১৯০৭ সাল পর্যন্ত তিনি স্টার, এমারেল্ড, মিনার্ভা, ক্লাসিক ও কোহিনুর ইত্যাদি রঙ্গালয় পরিচালনা করেন। ১৯০৮ সালে তিনি মিনার্ভা থিয়েটারের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন এবং আজীবন এ পদে ছিলেন।

গিরিশচন্দ্র সম্পর্কে অভিযোগ ছিল মদ্যপ ও স্বেচ্ছাচারী। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি শ্রীরামকৃষ্ণের অন্যতম অন্তরঙ্গ শিষ্যে পরিণত হন। “শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত” গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে, কিভাবে শ্রীরামকৃষ্ণের সংস্পর্শে আসার পর গিরিশচন্দ্রের নৈতিক পরিবর্তন ঘটে এবং তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠতম শিষ্যদের একজন হয়ে ওঠেন৷ ১৯১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এই মহান অভিনেতা ও নাট্যকার কলকাতায় পরলোক গমন করেন।কাজী নজরুল ইসলাম গিরিশচন্দ্রের ভক্ত ধ্রুব উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়িত করেন। পরবর্তী কালে আবার ১৯৫৬ সালে মধু বসুর পরিচালনায় গিরিশচন্দ্রের জীবন অবলম্বনে নির্মিত মহাকবি গিরিশচন্দ্র চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়।


এই বিভাগের আরো খবর
greengrocers

Categories

Archives