শিরোনাম
আইডিইবি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড এন্টারপ্রেনার্স ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন এর কমিটি গঠন ডিজিটাল বাংলাদেশের পরবর্তী ধাপ ক্যাশলেস সোসাইটি : জয় এসএমই ফাউন্ডেশনের ১০০’ কোটি টাকা ঋণের ৩৩ শতাংশ পেয়েছেন নারী উদ্যোক্তারা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের আঁতাতকরী বিএনপি নেতা নাসিরকে গনধোলাই দিলো কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা নিয়ে স্বজনপ্রীতি সহ্য করা হবে না : ওবায়দুল কাদের করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ৩২০০ কোটি টাকার নতুন প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের হাসেম ফুড পরিদর্শনে এসে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, পুলিশের লাঠিচার্জ চলমান লকডাউন শিথিল, ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত কঠোর বিধি-নিষেধের প্রজ্ঞাপন জারি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘে প্রস্তাব গৃহীত করোনা রোগীর চাপে চট্টগ্রাম মেডিকেলে সাধারণ রোগী ভর্তি বন্ধ করে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ
রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৯:২০ পূর্বাহ্ন

সিটি এলাকার পানি ফতুল্লায় গিয়ে পরছে: শামীম ওসমান

মাহমুদ হাসান কচি | নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
আপডেট সোমবার, ৫ জুলাই, ২০২১

দীর্ঘদিন যাবৎ দুর্গন্ধময় পানির মাঝে বসবাস করছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বেশিরভাগ মানুষ। তাদের দীর্ঘদিনের এই সমস্যার ইতি টানতে অনুষ্ঠিত হয়েছে জেলা প্রসাসকের জলাবদ্ধতা নিরসন বিষয়ক সভা।

 

উক্ত সভায় আলোচনা করা হয় যে, কিভাবে ফতুল্লায় পানিতে তলিয়ে যাওয়া বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতা দুর করা যায়। তার জন্য সেনাবাহিনীর সব রকমের প্ল্যানিং পর্যবেক্ষন করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ শামীম ওসমান। এ সময় ডিএনডি প্রজেক্টের ডিরেক্টর লেঃ কর্নেল মো. আহসানূত তাকবিম চৌধুরী বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত তুলে ধরেন।

রোববার (৪ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

 

সভায় শামীম ওসমান বলেন, আজকের এই সভায় ডিএনডি প্রজেক্টের সাথে সম্পৃক্ত সেনাবাহিনী ভাইয়েরা বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট যার যার মত করে এই প্রবলেমটা কিভাবে সমাধান করা যায় তারা একটা মতামত দিয়েছেন। একচুয়ালি এই মতামতটা যদি বিছিন্ন করা যায়, তো আমরা সবাই মিলে আলোচনায় বুঝে উঠলাম এখানে একটা সমন্বয়ের কথা। যতক্ষন পর্যন্ত অল দ্যা গভারমেন্ট মেশিনারিজ এখানে সমন্বয় না হবে ততক্ষন পর্যন্ত হয়ত কিছু আনসিট সমস্যা সমাধান হবে কিন্তু পরিপুর্ন সমস্যা সমাধান হবে না । সেই পরিস্থিতে আপনারা দেখেছেন আমরা এখান থেকে মন্ত্রী মহদয়ের সাথে কথা বলেছি । মন্ত্রী মহোদয় আমাদের অনুরোধ শুনেছেন এবং আগামি রোববার তিনি নারায়ণগঞ্জে আসবেন।

 

এ সময় তিনি আরও বলেন, মন্ত্রী মহোদয় আসার আগে আগামি বুধবার জেলা প্রশাসক মহোদয় ইতিমধ্যে এই খানে যারা আছেন আর যারা উপস্থিতি নাই সেই সমস্ত সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ কে এই প্রবলেমটাকে কিভাবে সমাধান করা যায় র্অথাৎ ডিএনডির বাহিরে যে এলাকায় জলাবদ্ধতা হচ্ছে লালপুর, কুতুবপুরসহ বিভিন্ন এলাকার সমস্যা  গুলোকেও কিভাবে সমাধান করা যায় ওই বেপারে যেসকল মতামত এই বৈঠকে হবে এবং সেই সাথে সমস্ত মতামত গুলোকে নিয়ে  সরকারের পক্ষ থেকে আর কি কি ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে সেই ব্যাপারে আলোচনা করে আমরা সমাধান করবো।

এ সময় পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক মুঠো ফোনের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বলেন, আপনারা জানেন এই ডিএনডির প্রকল্পটা অনেক আগের একটি প্রকল্প। ১৯৬২ সালের দিকে এ প্রকল্পটা করা হয়েছিলো। সেচ উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার জন্য এ প্রকল্পটা করা হয়েছিলো। কিন্তু সেখানে কৃষি কাজের বদলে আবাসিক এলাকা ও শিল্প কারখানা গরে তোলার ফলে এ সমস্যাটা সৃষ্টি হয়। পরে ২০১৬ সালে সেখানে ৫শ ৫৮ কোটি ১৯ লক্ষ টাকার একটি বাজেট পাশ করা হয়। তবে সেখানে শত শত অবৈধ স্থাপনা ছিলো তাই সেখানে যে টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিলো সে টাকা দিয়ে হচ্ছিলো না। পরে জাতীয় বাজেট থেকে এই প্রকল্পের জন্য আরো ৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। আমি লেঃ কর্নেল মো. আহসানূত তাকবিমকে বলেছি প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহন করতে।

তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন এলাকার পানি কবরস্তানের নিচে দিয়ে গাবতলী হয়ে বেরিয়ে আমার ফতুল্লায় গিয়ে পরছে আর সেই এলাকা নিচু স্থানে হওয়ায় পানি গুলো সরার কোন জায়গা পাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে আমাদের জনগনেরও কিছু দোষ রয়েছে। কেননা ড্রেন পরিস্কারের জন্য একবারে বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয় সেই টাকা দিয়ে একবার পরিস্কার করার পর যখন আবার ময়লা জমে যায় তখন আবার সমস্যা সৃষ্টি হয়। আমি ডিএনডি’র সাথে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করবো আমাকে কাজে লাগান।

 

এ সময় ডিএনডি প্রজেক্টের ডিরেক্টর লেঃ কর্নেল মো. আহসানূত তাকবিম চৌধুরী বলেন, ওই এলাকায় পানি নিরসনের জন্য গতবার আমরা ২ টি পাম্প ব্যবহার করতাম কিন্তু এখন চারটি আছে। এবার যখন বৃষ্টিপাত হওয়া শুরু করলো তখন মাননীয় মন্ত্রীর নির্দেশে আমরা সব গুলো কাজ শুরু করেছি। এবার আমরা চেষ্টা করে পানি কমাতে সক্ষম হয়েও গিয়েছিলাম কিন্তু পরে আবার বৃষ্টি শুরু হওয়ায় আবার পানি জমে যায়। আমরা যে পাম্প গুলো ব্যবহার করেছিলাম সেগুলোর দ্বারা প্রতি সেকেন্ডে ২০ হাজার লিটার পানি নেমে আসছে যা ওইখানের পানি নিরসনের জন্য যথেষ্ট ছিলো। কিন্তু রেলওয়ে প্রকল্পের জন্য পানি গুলো সরাতে পারছি না, তো কথা হলো আমরা যদি সমন্বয় না করি তাহলে যতই পাম্প বসাইনা কেন পানি নামানো সম্ভব হবে না।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা কিন্তু পরিস্কার করছি কিন্তু মানুষ ময়লা ফেলার স্থান না পেয়ে সেখানে জনগন আবার ময়লা ফেলছে। তারা বুঝতে পারছে না যে সেখানে ময়লা ফেলায় সমস্যাটা কি হতে পারে। এই প্রজেক্টের বাইরে যে ক্যানেল গুলো রয়েছে সেগুলো পরিস্কার রাখতে হবে, এবার কাজ আমরা করি বা যেই করুক আমরা স্থায়ী ভাবে সমাধানটা চাই। সুতরাং ওই ক্যানেল গুলোকে আমাদের কোন না কোন প্রজেক্টে আনতেই হবে। সমন্বয় সভার মধ্য দিয়ে আমাদের তুলে ধরতে হবে এই জায়গাগুলো আমাদের সমাধান করা দরকার এবার এটি রোড’স এর হোক বা রেলওয়ের হোক। ওই মিটিং এ আমার পুরো এলাকাটা এনালাইসিস করে জানাবো যে কার কি করা দরকার। তার পরে আপনারাতো আছেন।

 

এ সময় জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সেলিম রেজা, অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেট রহিমা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফা জাহুরা, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূইয়া সাজনু, ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফউল্লাহ বাদল পিএসসি, মেজর সৈয়দ মোস্তাকীম হায়দার ও ক্যাপ্টেন ইবনে ফরহাদ মন্ডল।


এই বিভাগের আরো খবর
greengrocers

Categories

Archives